Monday, August 17, 2015

গুঁড়ো দুধে অস্বাভাবিকহারে মুনাফা করছে ব্যবসায়ীরা

0 comments

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম অর্ধেকে নেমেছে অথচ দেশীয় 

বাজারে কেজি প্রতি দ্বিগুণ টাকা আদায়

গুঁড়ো দুধে অস্বাভাবিকহারে মুনাফা করছে ব্যবসায়ীরা

কামাল উদ্দিন সুমন : ননীবিহীন ও ননীযুক্ত গুঁড়ো দুধের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে অর্ধেকে নেমেছে অথচদেশীয় বাজারে অস্বাভাবিক মুনাফায় বিক্রি করছেন আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা। ফলে চড়া দামেই পণ্যটি কিনতে বাধ্য হচ্ছে ভোক্তারা।আন্তর্জাতিক বাজারে গুঁড়ো দুধের দাম কমে যাওয়ার সুফল পাচ্ছে না ভোক্তারা। এমনকি বেশি দামে গুঁড়ো দুধ কিনতে গিয়ে ভোক্তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

শত কোটি টাকার মালিক

0 comments


শত কোটি টাকার মালিক 

জয়তু দুর্নীতি


 সম্পদের পাহাড় গড়েছেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) প্রধান প্রকৌশলী মো. ফিরোজ ইকবাল। 
অবৈধ উপায়ে অর্জিত নামে বেনামে দেশ-বিদেশে শত কোটি টাকারও বেশি সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি। রাজধানীর ধানমন্ডি, বেইলী রোড, গুলশান ও বারিধারায় রয়েছে ফ্ল্যাট, রাজউকের পূর্বাচল প্রকল্পে রয়েছে প্লট, নরসিংদীর শিবপুর এলাকায় গড়ে তুলেছেন বিপুল বিত্ত-বৈভব। এছাড়াও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকে রয়েছে তার নগদ অর্থ। তার এই সম্পদের খোঁজ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ইত্যেমধ্যে তার অবৈধ সম্পদের  প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করেছে দুর্নীত বিরোধী এ প্রতিষ্ঠানটি । তার বিরুদ্ধে অভিযোগের অনুসন্ধান করছে দুদকের উপ-পরিচালক হামিদুল হাসান। অনুসন্ধানের তদারকি করছেন দুদকের পরিচালক (অনুসন্ধান ও তদন্ত-১) মোহাম্মদ বেলাল হোসেন। এক বৈঠকে তাদেরকে এই দায়িত্ব দেয় কমিশন।

 চলতি বছরের ২১ জুন কমিশনে এ অভিযোগ আসে। কমিশন তা প্রাথমিক সোর্সের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে অনুসন্ধানের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়। অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে মো. ফিরোজ ইকবালকে নথিপত্রসহ তলব করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট অনুসন্ধান কর্মকর্তা। দুদক সূত্র জানায়, সওজের প্রধান প্রকৌশলী ফিরোজ ইকবাল গ্রামের বাড়ি নরসিংদীর শিবপুর এলাকায় গড়ে তুলেছেন বিপুল বিত্ত-বৈভব। রাজধানীর ধানমন্ডি পুরাতন ৩২ নম্বর সড়ক (নতুন-১১ নম্বর), বাড়ি নং-২২/এ, এএনজেড-সুগন্ধার দোতলায় রয়েছে বিশাল ফ্ল্যাট। ঢাকার বেইলী রোডেও রয়েছে ফ্ল্যাট। রাজউকের পূর্বাচল প্রকল্পে রয়েছে প্লট। এক ছেলে ও এক মেয়েকে যথাক্রমে আমেরিকা এবং অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা করাচ্ছেন।প্রকৌশলী ফিরোজ ইকবাল ১৯৮১ সালে রাজশাহী ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে পাস করার পর ১৯৮৩ সালে সড়ক ও জনপথ বিভাগে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে চাকরি নেন। ২০০৪ সালের ৫ জুলাই তিনি নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি পান। এ সময়ের মধ্যে তিনি মৌলভীবাজার, চট্টগ্রাম, মাগুরা, ঝিনাইদহ, মানিকগঞ্জে বিভিন্ন পদে চাকরি করেন। সওজের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন প্রকল্প পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকালে তিনি ঠিকাদার এবং অধীনস্থ প্রকৌশলীদের কাছ থেকে কমিশন, ঘুষ ও বিধি বহির্ভূতভাবে আর্থিক সুবিধাদি গ্রহণ করেন। এভাবে অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থে তিনি দেশ-বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলেন। বর্তমানে তিনি নামে-বেনামে শত কোটি টাকারও বেশি মালিক। গত বছরের ২৪ আগস্ট প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর তিনি আরো বেপরোয়া হয়ে পড়েন। সম্পদের লোভের মোহ তার কাটছে না। দুদক সূত্র আরো জানায়, মেঘনা এবং মেঘনা-গোমতী (দাউদকান্দি) সেতু দুটির মেরামত ও সংস্কারের জন্য যোগাযোগ মন্ত্রণালয় ১৪৯ কোটি টাকায় একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছিল। এ প্রকল্পেরও অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িত  ফিরোজ ইকবাল। দেশের ৬৪ জেলায় কালভার্ট নির্মাণ, প্রতিরক্ষাবাঁধ ও সড়ক সংস্কার-সংক্রান্ত ৭৬৮টি প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে দুদকে। এই অভিযোগে ফিরোজ ইকবালের বিরুদ্ধে রয়েছে আর্থিক অনিয়ম। এর আগে দেশের ৬৪ জেলায় যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সড়ক ও জনপথ বিভাগের ছয় শতাধিক প্রকল্প চিহ্নিত করে আর্থিক অনিয়ম তদন্তে নেমেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন। ঢাকা বিভাগের ছয়টি জেলার কালভার্ট, প্রতিরক্ষা বাঁধ ও সড়ক সংস্কারের ৭২টি প্রকল্প তদন্ত করে ২৪টিতে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া যায়। এসব প্রকল্পে ফিরোজ ইকবালসহ সংশ্লিষ্ট প্রায় একশ ঠিকাদার ও প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। তবে তৎকালীন উপ-পরিচালক মো. বেলাল হোসেনসহ অনুসন্ধান টিম বিষয়টি ধামাচাপা দেয়।অনুসন্ধান সূত্র জানায়, বিষয়গুলো অভিযোগ আকারে দুদকে এলে বাছাই কমিটি অনুসন্ধানের পক্ষে মত দেয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন অনুসন্ধানের লক্ষ্যে কর্মকর্তা নিয়োগ করে। সূত্র জানায়, সওজের বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ এরআগেও দুদকে এসেছিল। এ অভিযোগের অনুসন্ধান করে সত্যতাও পাওয়া গেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দুদকের ঊর্ধ্বতন হস্তক্ষেপে অনুসন্ধান বন্ধ হয়ে যায়। সওজের প্রধান প্রকৌশলী মো. ফিরোজ ইকবালের অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান করতে কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়ার পর পরই অনুসন্ধান কর্মকর্তাকে দুদকের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মিডিয়ায় বিষয়টি না আসার জন্য সতর্ক করেছেন বলে জানা যায়। এই বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই সতর্ক করছেন বলে মনে করেন সংশ্লিস্ট সূত্র।
সূত্র : দৈনিক ইনকিলাব, শেখ জামাল :
 - See more at: http://www.dailyinqilab.com/details/25938/%E0%A6%B6%E0%A6%A4-%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%9F%E0%A6%BF-%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%95#sthash.y8XIorG7.dpuf


Copyright Daily Inqilab

Sunday, August 16, 2015

ভেজালের রাজ্যে ভেজাল জিন্দাবাদ

0 comments

ভেজালের রাজ্যে ভেজাল জিন্দাবাদ

শতভাগ ভেজাল ১৩ পণ্যে

খাবারের তালিকাভুক্ত ৪৩ ধরনের পণ্যে ভেজাল পাওয়া গেছে। এসব পণ্যে শতকরা ৪০ ভাগ ভেজালের সন্ধান পেয়েছে জনস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট (আইপিএইচ)। এর মধ্যে ১৩টি পণ্যে ভেজালের হার প্রায় শতভাগ। ভেজাল বা নিুমানের খাদ্য শনাক্ত হলেও এগুলো বিক্রি বন্ধে সরকারের কোনো উদ্যোগ নেই। ফলে প্রতিদিন ভেজাল খাবারের প্রভাবে দুরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্তের আশংকা বাড়ছে।

ভোক্তাদের অভিযোগ- 

ভেজাল মেশানোয় পণ্যের মান কমছে। ছোট হচ্ছে আকার। দামও দিতে হচ্ছে বেশি। এভাবে প্রতিনিয়ত ঠকছেন ক্রেতা ও ভোক্তা। মুনাফা লুটছে অসাধু ব্যবসায়ী, উৎপাদক ও মধ্যস্বত্বভোগীরা। আইপিএইচ পরীক্ষা করেছে এমন পণ্যের মধ্যে বহুল ব্যবহৃত হচ্ছে সয়াবিন তেল। এ তেলে ফ্রি ফ্যাটি এসিডের (ফলিক এসিড) উপাদান পাওয়া গেছে শতকরা দুই দশমিক আট ভাগ। এ তেলে ফলিক এসিডের সহনীয় মাত্রা হচ্ছে শতকরা দুই ভাগ। ফলিক এসিডসহ অন্য সব মিলে সয়াবিনে ভেজালের মাত্রা দাঁড়িয়েছে শতকরা ৭৮ ভাগ।

Thursday, August 6, 2015

ওয়াসার এমডি তাকসিম এর সীমাহিন দূর্নিতি

0 comments

পদ্মা জশলদিয়া পানি শোধনাগার প্রকল্প

নিম্নমানের পাইপ এনে ফেঁসে যাচ্ছেন ওয়াসার এমডি তাকসিম



মুন্সীগঞ্জের পদ্মা (জশলদিয়া) পানি শোধনাগার প্রকল্পের জন্য আনা পাইপকে নিম্নমানের এবং টেকসই নয় বলে মতামত দিয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। এই প্রকল্পে ব্যবহারের জন্য চীন থেকে আনা হয়েছে কে-৯ ক্লাস ডিআই পাইপ; কিন্তু বুয়েট বলেছে, এই প্রকল্পের জন্য কে-১০ ক্লাস ডিআই পাইপ উপযুক্ত। প্রাথমিক নমুনা যাচাই-বাছাই ও পরীক্ষার পর বুয়েটের ধাতব ও প্রকৌশল বিভাগের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা এমন লিখিত মতামত দিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক)।

তবে সরেজমিনে গিয়ে এই প্রকল্পের জন্য আনা পাইপ বিশদ পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে আরো বিস্তারিত জানা যাবে বলে বুয়েটের মতামতে বলা হয়েছে। আর এই পরীক্ষার জন্য প্রয়োজন পড়বে ৮৬ লাখ টাকা। এই টাকা পানি শোধনাগার প্রকল্প খাত থেকে বুয়েটের সংশ্লিষ্ট তহবিলে জমা দেওয়ার জন্য বলেছে বুয়েটের ধাতব ও প্রকৌশল বিভাগ। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে দুদকের অনুসন্ধান-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

Saturday, August 1, 2015

দুই কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ করার সুপারিশ

0 comments

দুই কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ করার সুপারিশ

গণতন্ত্র বিষয়ক সেমিনারে বক্তারা

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জবাবদিহিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে দুই কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ গঠনের সুপারিশ করেছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। গণতন্ত্র বিষয়ক এক সেমিনারে তাঁরা বলেন, জনসংখ্যা বেশি হওয়ায় নির্বাচনী আসনসংখ্যা বাড়িয়ে ৫০০ করা যেতে পারে। এছাড়া জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গণভোট করার সুযোগ রাখা যেতে পারে। বক্তারা গণতন্ত্র সুদৃঢ় করতে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীন, শক্তিশালী ও নির্দলীয় ভূমিকা নিশ্চিত করতে সরকারকে পদক্ষেপ নেয়ার সুপারিশ করেন।
দুই কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ করার সুপারিশ

গতকাল পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউটে (পিআরআই) ‘রিথিংকিং ডেমোক্রেটাইজেশন: কনসেনসাস বিল্ডিং ফর রেজাল্টস’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এ মতামত ব্যক্ত করেন। পিআরআই এবং ইন্টারন্যাশনাল পলিটিক্যাল সায়েন্স এসোসিয়েশন (আইপিএসএ) অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করে।
আইপিএসএ (আরসি ৩৭) চেয়ারম্যান এবং ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিনের এমিরেটাস প্রফেসর ড. জিল্লুর রহমান খান সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির এমিরেটাস প্রফেসর মনজুর আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. রেহমান সোবহান। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাঈদুজ্জামান, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলী খান, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এটিএম শামসুল হুদা, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ইনাম আহমেদ চৌধুরী, সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. রওনক জাহান, ইত্তেফাক-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক তাসমিমা হোসেন, সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, সাবেক বাণিজ্য সচিব সোহেল চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন এবং পিআরআইয়ের নির্বাহী পরিচালক  ড. আহসান এইচ মনসুর প্রমুখ।
সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ড. জিল্লুর আর খান বলেন, সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধীদলের ভূমিকা অর্থবহ করতে সংসদের ডেপুটি স্পিকার এবং সংসদীয় কমিটির এসোসিয়েট চেয়ার বিরোধীদলের মধ্য থেকে নির্ধারণ করা যেতে পারে। এছাড়া সংসদে জনগণের সঠিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে আসন বিন্যাস করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে জোটভিত্তিক সরকার ব্যবস্থা গড়ে উঠতে পারে যা এক ধরনের জবাবদিহিতার সুযোগ তৈরি করে।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন দল ৫০ ভাগেরও বেশি আসনে বিনাভোটে নির্বাচিত হয়েছে। এ অবস্থায় তাদেরকে ২০০৮ সালে দেয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের দিকে জোর দিতে হবে। গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য বৃহত্ দুই দলের নির্বাচিত ব্যক্তিদের দিয়ে একটি অভ্যন্তরীণ সরকার করারও পরামর্শ দেন তিনি। গণতন্ত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে দুই কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনস্যংখ্যার বিচারে এখানে নিম্নকক্ষে ৫০০ এবং উচ্চকক্ষে ১০০ সদস্য থাকতে পারে। উচ্চকক্ষের সদস্যরা চার বছর আর নিম্নকক্ষে দুই বছরের জন্য নির্বাচিত হবেন। নির্বাচন হবে দুই বছর পর পর। প্রতি দুই বছর অন্তর অন্তর নিম্নকক্ষের সদস্যদের নির্বাচনের পাশাপাশি উচ্চকক্ষের অর্ধেক সদস্য নির্বাচিত হবেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. রেহমান সোবহান বলেন, গত ২৫ বছর ধরে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয়করণ করা হয়েছে। এখন এসব প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী না করে কোনভাবেই টেকসই নির্বাচনী ব্যবস্থা গড়ে তোলা ঠিক হবে না। ড. রেহমান সোবহান আরও বলেন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে। যেন সরকারের কার্যক্রমে তারা ভূমিকা রাখতে পারে। বর্তমানে এমপিরা তাদের এলাকা জমিদারি ব্যবস্থার মতো করে চালাচ্ছে। বর্তমানে হরতালে যেসব কাজ করা হয়, তা খুবই অনৈতিক। কারণ এতে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। রাষ্ট্রপতিকে ক্ষমতা দেয়ার পক্ষে তিনি মত দেন।
ড. আকবর আলী খান বলেন, বর্তমানে রাজনীতিতে যে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে তাতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষেও সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব নয়। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আগে সংবিধানের ত্রুটি দূর করতে হবে। আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থার পক্ষে মত দিয়ে তিনি বলেন, এ ব্যবস্থায় ৫১ ভাগ ভোট পেতে হলে জোট করতে হবে। ফলে আলাপ-আলোচনা ও সংলাপের সুযোগ তৈরি হবে। জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গণভোট করার সুযোগ রাখা যেতে পারে উল্লেখ করে ড. আকবর আলী বলেন, এক্ষেত্রে হরতাল ও বিশৃঙ্খলা কিছুটা কমতে পারে।
ইনাম আহমেদ চৌধুরী বলেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো নির্দলীয় ও স্বাধীন হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের দেশে তা দেখা যায় না।
ড. রওনক জাহান বলেন, আমাদের দেশে নির্বাচনের আগে সব দল মুভমেন্ট পলিটিক্স (মাঠ গরম) করে। এ নিয়েও নানা বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। গণভোট করা হলে যদি মুভমেন্ট পলিটিকেসর কারণে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় তবে গণভোটের মূল উদ্দেশ্যই ভেস্তে যাবে। তিনি আরও বলেন, আমাদের সংসদে এমপিরা নিজ দলের বিরুদ্ধে কথা বলতে চান না। কারণ পরবর্তীতে নমিনেশন পেতে সমস্যা হবে। এ ধরনের প্রবণতা দূর করতে দলের অভ্যন্তরে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সৃষ্টি করতে হবে।
এটিএম শামসুল হুদা বলেন, গণতন্ত্র সুদৃঢ় করতে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো (বিচার বিভাগ, দুদক, নির্বাচন কমিশন ইত্যাদি) শক্তিশালী ও স্বাধীন করতে হবে। অন্যথায় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিশ্বাস ও আস্থা আসবে না। বিশৃঙ্খলাও কমবে না। রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার বিষয়ে তিনি বলেন, তাঁকে বসিয়ে না রেখে ক্ষমতা দেয়া দরকার।
তাসমিমা হোসেন বলেন, গণতন্ত্র গতিশীল করতে নানা পরামর্শ দেয়া হলেও এর বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় থেকে যায়। আগেও দেখা গেছে বড় দুই দলের মধ্যে মতবিরোধ। আর তা সমাধান না হওয়ায় বিদেশিরা এসেছে। এরপরও সমাধান না হওয়ায় অবস্থার অবনতিও আমরা দেখেছি। এ পরিস্থিতি থেকে আমাদেরকে শিক্ষা নিতে হবে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতিকে কিছু ক্ষমতা দেয়া যেতে পারে। এতে গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে। নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে যেন তাদের ওপর মানুষের আস্থা বৃদ্ধি পায়।
ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, সরকার প্রধান ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগি করা প্রয়োজন। সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতিকে কিছু ক্ষমতা দেয়া হলে গণতন্ত্র গতিশীল হবে। দুই কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থা করার আগে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা দরকার।
অনুষ্ঠানশেষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও কর্মকাণ্ডের মূল্যায়নের ভিত্তিতে ‘থার্ড ওয়ার্ল্ড ক্যারিশম্যাট: শেখ মুজিব অ্যান্ড স্ট্র্যাগল ফর ফ্রিডম’ বইয়ের অনুবাদমূলক বই ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের সম্মোহনী নেতৃত্ব ও স্বাধীনতার সংগ্রাম’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। বইটি লিখেছেন ড. জিল্লুর আর খান। অনুবাদ করেছেন অজয় দাশগুপ্ত। প্রকাশক প্রথমা প্রকাশনী।

সূত্র ঃ  ইত্তেফাক রিপোর্ট ০৮ মার্চ, ২০১৫ ইং 

রেলের যাত্রীসেবা হোক সর্বজনীন

0 comments

রেলের যাত্রীসেবা হোক সর্বজনীন

রেলের যাত্রীসেবা হোক সর্বজনীন

মলয় ভৌমিক | আপডেট:  | প্রিন্ট সংস্করণ

গণপরিবহন হিসেবে রেলের বিকল্প নেইঈদের দুই দিন পর ২১ জুলাই প্রথম আলোয় প্রকাশিত একটি খবরের শিরোনাম ছিল ‘ট্রেনের জন্য হাহাকার’। রাজশাহী রেলস্টেশনকেন্দ্রিক এই খবরটি পরিবেশন করেন প্রথম আলোর রাজশাহী প্রতিবেদক। এরপর ২৬ জুলাই প্রথম আলোতেই গাইবান্ধা প্রতিনিধির পাঠানো খবরের শিরোনাম ছিল ‘জনবলসংকটে ১৬টি স্টেশনে কার্যক্রম বন্ধ’।
বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রীসেবা-উদ্দিষ্ট বিবেচনায় নিলে বলতেই হবে যে এ দুটি খবরের মধ্যে গুরুতর বৈপরীত্য রয়েছে। অর্থাৎ, যাত্রীরা যখন বেশি করে ট্রেনের দিকে ঝুঁকছে, তখন রেলওয়ে অনেক স্থানেই তার কার্যক্রম গুটিয়ে ফেলছে।
অনেকেই একমত হবেন যে প্রথম খবরটি রাজশাহীকেন্দ্রিক হলেও সারা দেশের চিত্র একই রকম। আর ঈদের কারণে ট্রেনের টিকিটের চাহিদা বেড়েছে এমনটিও নয়। নিরাপদ ও সাশ্রয়ী ভ্রমণের সুযোগ থাকায় ট্রেনের প্রতি যাত্রীদের আগ্রহ আগে থেকেই ছিল। এখন বরং তা কয়েক গুণ বেড়েছে। ঘন ঘন সড়ক দুর্ঘটনা, যানজট, সড়ক পরিবহন ধর্মঘট, বেশি ভাড়া আদায়—এসব এড়াতে যাত্রীরা বাস ছেড়ে ক্রমেই ট্রেনের দিকে ঝুঁকছে। এমনকি দুই বছর আগে ট্রেনের যাত্রীভাড়া প্রায় দ্বিগুণ করার পরও যাত্রীদের উৎসাহে ভাটা পড়েনি। রাজশাহীর উদাহরণ টেনেই বলা যায়, এখান থেকে সপ্তাহে এক দিন বিরতিসহ ঢাকার উদ্দেশে প্রতিদিন তিনটি করে ট্রেন ছেড়ে যায়। এই ট্রেনগুলোর টিকিট না পেয়ে যত যাত্রী ফিরে যায়, তা হিসাবে নিলে দেখা যাবে যে একই রুটে দিনে অন্তত আরও তিনটি ট্রেনের চাহিদা রয়েছে।
দ্বিতীয় খবরটিতে যে ১৬টি স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধের কথা বলা হয়েছে, তা কেবল একটি রুটের চিত্র। এই রুটটি সান্তাহার-লালমনিরহাট রুট। খবরে বলা হয়েছে, এ রুটের ৩১টি স্টেশনের মধ্যে ‘অন্তত ১৬টির অপারেশনাল ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ’। দক্ষিণের বৃহত্তর খুলনা-যশোরসহ রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ নিয়ে গড়ে উঠেছে রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চল। এ অঞ্চলে দুটি ডিভিশন—লালমনিরহাট ও পাকশী। ডিভিশন দুটিতে ছোট-বড় ১৫টির বেশি রুট রয়েছে। প্রতিটি রুটের অবস্থাই লালমনিরহাট-সান্তাহার রুটের মতো।
এ তথ্যের সত্যতা মেলে ২৬ জুলাই প্রথম আলোয় প্রকাশিত আরেকটি খবর থেকে। খবরটির শিরোনাম: ‘গুয়াখড়া স্টেশন ছয় বছর ধরে বন্ধ, জনদুর্ভোগ’। খবরে পাকশী বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিবহন কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, প্রধানত জনবলের সংকটের কারণে বিভাগের ১১৩টি স্টেশনের মধ্যে ৪২টি সম্পূর্ণভাবে এবং ১৭টি আংশিকভাবে বন্ধ আছে। অনেকে নিশ্চয়ই এ ব্যাপারেও একমত হবেন যে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চালচিত্রও একই রকম। অর্থাৎ, সারা দেশের বিভিন্ন রেলরুটে অপেক্ষাকৃত ছোট স্টেশনগুলোর কার্যক্রম হয় ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে, নয়তো বন্ধের উপক্রম হয়েছে।
অতিসম্প্রতি রেলওয়ের সেবার মান কিছুটা উন্নত হয়েছে। বিশেষ করে এর টাইম শিডিউল এখন অনেকটাই সহনীয় পর্যায়ে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে রেললাইন আগের চেয়ে ভালো হওয়ায় গতিও কিছুটা বেড়েছে। কিন্তু এ সবই হয়েছে দূরপাল্লার ট্রেনের ক্ষেত্রে, যার সুবিধা ভোগ করছে দেশের হাতে গোনা কয়েকটি শহরের সৌভাগ্যবান যাত্রীরা। বাদবাকি সারা দেশের বিপুলসংখ্যক আমজনতা এই ‘উন্নয়নের’ আওতার বাইরেই রয়ে গেছে। খোঁজ নিলে দেখা যাবে, বন্ধ হয়ে যাওয়া ওই স্টেশনগুলোর সবই হলো আমজনতার মফস্বলের স্টেশন, যেখানে এখন আর ‘নটার ট্রেন কটায় যায়’ অবস্থাটাও নেই।
বাংলাদেশ রেলওয়ে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠান। রাষ্ট্রের নাগরিকদের করের পয়সাতেই চলে রেলওয়ে। আমাদের এ তথ্যও জানা আছে যে বছরের পর বছর রেলওয়ে একটি লোকসানি প্রতিষ্ঠান হিসেবে টিকে আছে। রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে সাধারণের কল্যাণের স্বার্থে রেলওয়ের জন্য ভর্তুকি গুনতে হয়। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সব প্রতিষ্ঠানকেই মুনাফা করতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। পৃথিবীব্যাপী সাধারণের স্বার্থে সব রাষ্ট্রই এক বা একাধিক খাতে ভর্তুকি দিয়ে থাকে। কিন্তু এই ভর্তুকি তো যুক্তিগ্রাহ্য হতে হবে। সাশ্রয়ী হওয়ায় এই উপমহাদেশসহ পৃথিবীর অনেক দেশেই ট্রেন হলো সাধারণের বাহন। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, ট্রেনের কথিত উন্নয়ন ‘তেলা মাথায় তেল ঢালা’র পথে হাঁটছে। যাদের হাতের নাগালে বিমান আছে, বিলাসবহুল শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বাস আছে, তাদের দিকেই ঝুঁকছে ট্রেন। এই ঝোঁকটা অন্যায় কিছু নয়। কিন্তু যা ঘটছে, তা একপেশে ও বৈষম্যমূলক। মফস্বলকে পেছনে ফেলে রেলের এই সদরযাত্রাকে আর যা-ই বলা যায়, উন্নয়ন বলা যায় না।
‘গুয়াখড়া স্টেশন ছয় বছর ধরে বন্ধ’—এ খবরটি জেনে খুব ছোটবেলার কথা মনে পড়ছে। বন্ধ স্টেশনটি ঈশ্বরদী-সিরাজগঞ্জ রুটে। এই রুটেই সিরাজগঞ্জের দিকে মাত্র কয়েকটি স্টেশন পরে গুয়াখড়ার মতোই আরেকটি ছোট রেলস্টেশন আছে। নাম সলপ, যে স্টেশনকে ঘিরে রয়েছে আমাদের ছেলেবেলার রেলভ্রমণের নানা স্মৃতি। ১৯৬০-৬১ সালের কথা। ঢাকা থেকে জগন্নাথগঞ্জ ঘাট হয়ে রেলওয়ে ফেরিতে যাত্রীরা যমুনা পার হয়ে সিরাজগঞ্জে এসে আবার ট্রেনে চাপতেন। এ রকম একটা ট্রেন রাত সাড়ে নয়টার দিকে সলপ স্টেশনে আসত। আমরা সেই ট্রেনে উঠে ঈশ্বরদী স্টেশনে পৌঁছাতে না পৌঁছাতেই ঘুমিয়ে পড়তাম। ভোরবেলায় যখন ঘুম ভাঙত, তখন দেখতাম ট্রেনটি পূর্ব পাকিস্তানের দর্শনা বা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের গেদে স্টেশনে দাঁড়িয়ে আছে। ইমিগ্রেশন ও কাস্টমের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হতে কয়েক ঘণ্টা লেগে যেত। কলকাতার শিয়ালদহ স্টেশনে আমাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়ে যেত বিকেল। আন্তদেশীয় ও দূরপাল্লার ট্রেন হওয়া সত্ত্বেও ওই ট্রেনটি ছোট-বড় সব স্টেশনে দাঁড়াত এবং প্রতিদিনই চলত এই ট্রেনটি। এতে অতিসাধারণের সেবাও নিশ্চিত হতো। ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের সময় থেকে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ওই ধরনের ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে সরাসরি ট্রেন চালু হতে ৪২ থেকে ৪৩ বছর লেগে গেল। এখন ঢাকা থেকে মৈত্রী এক্সপ্রেস ওই একই রুটে কলকাতায় যায়। ট্রেনটি সপ্তাহের সব দিন চলে না। আর সলপ-গুয়াখড়া স্টেশনের মতো স্থানে দাঁড়ানো দূরে থাক, বড় স্টেশন এমনকি ঈশ্বরদীর মতো বড় জংশন স্টেশনেও দাঁড়ায় না ট্রেনটি। শুনেছি, মৈত্রী এক্সপ্রেসে প্রত্যাশিত যাত্রী মেলে না। ৫০ বছর আগে যখন পূর্ব পাকিস্তানের জনসংখ্যা ছিল মাত্র সাড়ে পাঁচ কোটি, তখন প্রতিদিন কলকাতার ট্রেনে যাত্রী মিলত। এখন সেই একই ভূখণ্ডে বাংলাদেশের লোকসংখ্যা ১৬ কোটি ছাড়িয়েছে, অথচ কলকাতার ট্রেনে যাত্রী নেই। যাত্রীরা কি সবাই স্বেচ্ছায় আকাশ বা সড়কপথে কলকাতা যেতে চায়? নাকি যেতে বাধ্য হয়? মৈত্রী ট্রেন অন্তত বড় স্টেশনগুলোতে দাঁড়ালেও এখন দিনে দুই থেকে তিনটি কলকাতাগামী ট্রেনের চাহিদা রয়েছে বলে আমার বিশ্বাস।
সলপ বা গুয়াখড়ার মতো স্টেশন, যেখানে ৬০ থেকে ৬৫ বছর আগে দূরপাল্লার আন্তদেশীয় ট্রেন দাঁড়াত, সেখানে এত দিন পরও দেশের অভ্যন্তরের আন্তনগর ট্রেনগুলো পর্যন্ত থামে না। আমরা আন্তনগর ট্রেনে গ্রামের বাড়িতে যেতে চাইলে আর সলপ স্টেশনের মতো স্থানে নামতে পারি না। ওই সব স্টেশনের আশপাশের যাত্রীরাও একই কারণে আন্তনগর ট্রেনের নাগাল পায় না। দু-একটি স্থানীয় ভাঙা ট্রেন এসব স্টেশনে থামলেও তার সেবার মান এমন যে মানুষ বাধ্য হয়েছে ট্রেনবিমুখ হতে।
সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মানুষের চলাচল অনেক গুণ বেড়েছে। বেড়েছে তাদের সামর্থ্যও। কিন্তু অপেক্ষাকৃত নিরাপদ ট্রেনভ্রমণের অধিকার থেকে বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের মানুষ আজ বঞ্চিত। এ কথা ঠিক যে সব স্টেশনে দাঁড়ালে গন্তব্যে পৌঁছাতে ট্রেনের সময় বেশি লাগবে। কিন্তু এ সমস্যার সমাধান সহজেই সম্ভব। কোনো কোনো ট্রেন সরাসরি এবং কোনো কোনোটি সব স্টেশনে বিরতি দিয়ে চালানো যায়।
স্বাধীনতার আগে থেকেই ট্রেনের অবকাঠামো এ এলাকায় ছিল। ট্রেন সব সময় সব দেশেই সাধারণের বাহন। প্রতিবছর অল্প অল্প বিনিয়োগ করলেও আজ রেলপথের ব্যাপক উন্নয়ন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অটোমোবাইল ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষাকারী সিন্ডিকেট ইচ্ছাকৃতভাবে এই খাতে অবহেলা দেখিয়েছে। রেলকর্মীরাও খুব একটা দায় এড়াতে পারেন না।
রেলওয়ের প্রতি বর্তমান সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি যথেষ্ট ইতিবাচক। পৃথক রেল মন্ত্রণালয় স্থাপনসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ সেই দৃষ্টিভঙ্গিরই বহিঃপ্রকাশ। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপেই যমুনা সেতুতে রেললাইন সংযোজন সম্ভব হয়। যদিও মূল পরিকল্পনায় না থাকায় যমুনা সেতুর রেললাইনটি যথেষ্ট নাজুক। রেলকে গতিশীল করতে হলে যমুনায় জরুরি ভিত্তিতে পৃথক রেলসেতু নির্মাণের কোনো বিকল্প নেই। পাশাপাশি সিঙ্গেল ট্র্যাকের স্থলে ডাবল ট্র্যাক নির্মাণও রেলওয়েকে গতিশীল করার আবশ্যিক শর্ত। মিটারগেজ-ব্রডগেজের জটিলতা এড়াতে সব রুটে অবিলম্বে মিশ্রগেজের ব্যবস্থা গ্রহণও জরুরি। সরকারের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি, সেই সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে কানেকটিভিটি বাড়ানোর সাম্প্রতিক উদ্যোগের ফলে রেলওয়ের প্রকৃত উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই খাতে বৈদেশিক বিনিয়োগের সম্ভাবনাও উজ্জ্বল। এসব সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে এসে সাধারণ মানুষ রেলওয়ে সেবার অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে, এমনটা আমরা কখনোই প্রত্যাশা করি না।
মলয় ভৌমিক: অধ্যাপক, ব্যবস্থাপনা বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়; নাট্যকার।

বেসিক ব্যাংঙ্কে ঋনের নামে কোটি কোটি টাকা লুট

0 comments

বস্তায় বস্তায় ঋণের টাকা লোপাট(বেসিক ব্যাঙ্কে)


সাড়ে চার হাজার কোটি নয়, বেসিক ব্যাংক থেকে লোপাট হয়েছে সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে কাজের বুয়াদের নামে ঋণ মঞ্জুর হয়েছে দুই হাজার কোটি টাকা। ঋণ দেয়া হয়েছে বাড়ির দারোয়ান, ড্রাইভার, কর্মচারীর নামে চলা প্রতিষ্ঠানকে। সাড়ে সাত বছরের শিশুকন্যার নামে মঞ্জুর হয়েছে তিন কোটি টাকা। সুদে-আসলে যা এখন দাঁড়িয়েছে আট কোটি টাকার ওপরে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ইন্টেলিজেন্স ইউনিট এবং আইনশৃংখলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে বস্তায় বস্তায় টাকা সরিয়ে নেয় বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চুর লোকেরা। বড় পেমেন্টগুলোর ক্ষেত্রে পে-অর্ডার কিংবা চেকের মতো প্রমাণও রাখা হয়নি। চাঞ্চল্যকর এমন বহু তথ্য বেরিয়ে এসেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে। তবে বেসিক ব্যাংকের অবিশ্বাস্য লোপাটের ঘটনা অনুসন্ধানের সফল পরিসমাপ্তি বেঁধে দেয়া কোনো সময়সীমার মাধ্যমে সম্পাদন সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে দুদকের উচ্চপর্যায়ের সূত্র। ঘটনার ভয়াবহতা নিরূপণ, সত্য তথ্য উদ্ঘাটনে বিদ্যমান অনুসন্ধান টিমকে শক্তিশালী করা হতে পারে বলেও জানায় সূত্র। সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে যুক্ত করা হতে পারে ব্যাংকিং ফ্রডের ওপর দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের।

দুদক সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ২০১৩ সালে দুদক বেসিক ব্যাংকের সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা লোপাটের ঘটনা অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়। প্রথমে উপপরিচালক মুহা. মাহবুবুল আলমকে বিষয়টি অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেয়া হলেও ঘটনার স্পর্শকাতরতা ও ব্যাপকতার কারণে উপপরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলীর নেতৃত্বে একটি টিম গঠন করা হয়। টিমের কয়েকজন কর্মকর্তা বদলি এবং হলমার্ক কেলেংকারিসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অনুসন্ধানে যুক্ত হলে উপপরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে টিম পুনর্গঠন করা হয়। উপপরিচালক মাহবুবুল আলম, সহকারী পরিচালক আশিকুর রহমান এ টিমের সদস্য। এ টিম দুই বছর ধরে বেসিক ব্যাংকের অর্থ হরিলুট নিয়ে কাজ করছে। মাঝে অনুসন্ধান অনেকটা স্থবির হয়ে পড়লেও এ বিষয়ে সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বেসিক ব্যাংকে ‘হরিলুটের’ পেছনে আবদুল হাই বাচ্চু জড়িত’ উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণের কথা উল্লেখ করে বক্তব্য দেন। জাতীয় সংসদেও এ নিয়ে আলোচনা হয়। এর পরপরই দুদক সক্রিয় হয়ে ওঠে বেসিক ব্যাংকের অনুসন্ধান বিষয়ে। ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে অনুসন্ধান বিষয়ে একটি প্রতিবেদন জমা পড়ার কথা থাকলেও পরে কমিশন বড় এ ঘটনায় তড়িঘড়ি অনুসন্ধান নিষ্পন্ন না করার বিষয়ে একমত হয়। কারণ সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে বেসিক ব্যাংকের আরও রেকর্ডপত্র হস্তগত করা প্রয়োজন। জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন সে সময় দায়িত্বশীল পদে থাকা কর্মকর্তা এবং ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠান মালিকদের। এ বাস্তবতায় নিদেনপক্ষে একটি ‘অগ্রগতি প্রতিবেদন’ দাখিল করতে আরও অন্তত ১৫ কার্যদিবস লেগে যেতে পারে বলে জানিয়েছে দুদকের উচ্চপর্যায়ের সূত্রটি।
এদিকে বেসিক ব্যাংক নিয়ে পূর্ণ উদ্যোমে শুরু হওয়া অনুসন্ধান সম্পর্কে আপাতত বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হচ্ছেন না দুদকের শীর্ষ কর্মকর্তারা। তবে ঘটনার নেপথ্য নায়ক বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চুর সংশ্লিষ্টতা প্রমাণে আরও কিছু রেকর্ড হাতে নেয়ার চেষ্টা করছে দুদক টিম। এ প্রক্রিয়ায় বাচ্চুর সময়কালে নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি, ক্ষমতা কুক্ষিগতকরণ সংক্রান্ত বোর্ড রেজুলেশনসহ রেকর্ডপত্র চেয়ে ব্যাংকটির বর্তমান ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়া হবে বলে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, বেসিক ব্যাংকের নজিরবিহীন হরিলুট অনুসন্ধানে নেমে বিস্মিত দুদক কর্মকর্তারাই। যে প্রক্রিয়ায় সোনালী ব্যাংক থেকে হলমার্ক অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে- বেসিক ব্যাংকের প্রক্রিয়াটি ছিল ঠিক বিপরীত। হলমার্কের জালিয়াতি সীমাবদ্ধ ছিল ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর থেকে তার অধস্তন কর্মকর্তাদের মাঝে। হলমার্ক গ্র“প কোনো ভুয়া প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে ঋণ সুবিধা নেয়নি। ভুয়া এলসির বিপরীতে অর্থ সরিয়েছে। এ বিষয়ে প্রায় ১৩ হাজার রেকর্ডপত্র দুদকের অনুসন্ধানের সহায়ক ছিল। হলমার্ক কেলেংকারিতে ব্যাংকের শীর্ষ ব্যক্তিদের নজরদারির দায়িত্বহীনতা প্রমাণিত হলেও সরাসরি সংশ্লিষ্টতা পায়নি দুদক।
পক্ষান্তরে বেসিক ব্যাংকের হরিলুট হয়েছে শীর্ষ পর্যায় থেকে, বিপরীত পদ্ধতিতে। এখানে লুট হয়েছে অধিকাংশই ডকুমেন্ট ছাড়া। ঋণের নামে লুণ্ঠন হয়েছে তৎকালীন চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চুর পরিকল্পনা ও নির্দেশনায়। বেসিক ব্যাংকের সর্বেসর্বা ছিলেন তিনি। পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টরসহ সংশ্লিষ্টদের নানাভাবে নিয়ন্ত্রণের শৃংখলে বেঁধে রাখেন।
সূত্রটি জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার অনুযায়ী, ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর পর্যন্ত কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও বদলির এখতিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের। কিন্তু বোর্ড রেজুলেশনে এমডির এখতিয়ার নিয়ে নেন চেয়ারম্যান বাচ্চু। ফলে তার উদ্দেশ্য চারিতার্থে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেন- এমন কর্মকর্তাদের তিনি সরিয়ে দেন। পদোন্নতি দিয়ে, সুবিধাদি বাড়িয়ে তাদের স্থলাভিষিক্ত করেন তার বিশ্বস্ত, অনুগত, সহায়ক ও সুবিধাভোগীদের। চাকরিচ্যুতি, বিভাগীয় মামলা, পদোন্নতি, বদলির মতো হাতিয়ার ব্যবহার করে পুরো ব্যাংকে প্রতিষ্ঠা করেন একক নিয়ন্ত্রণ।
অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, বেসিক ব্যাংক হরিলুটের ঘটনায় যে মামলার প্রস্তুতি চলছে তাতে শেখ আবদুল হাই বাচ্চুর সংশ্লিষ্টতা প্রমাণে খুব বেশি তথ্য-প্রমাণের প্রয়োজন নেই। কারণ যে কোনো ঋণের আবেদন বিভিন্ন টেবিলের প্রক্রিয়া শেষে ক্রেডিট বোর্ডে ওঠে শাখা ব্যবস্থাপকের প্রস্তাবনার ভিত্তিতে। কিন্তু শেখ আবদুল হাই বাচ্চু ৩২টি ঋণ মঞ্জুর করেন শাখার কোনো প্রকার প্রস্তাবনা ছাড়াই। ঋণের জন্য দরখাস্তও জমা পড়েনি। অথচ ঋণ মঞ্জুর হয়ে গেছে ‘বোর্ড সভায়’। সভায় ঋণ প্রস্তাবের কোনো মাইনুটসও নেই। ৩২টি ঋণের মধ্যে এমনও রয়েছে, ৩০ জুলাই বোর্ডে ঋণ মঞ্জুর হয়ে গেছে। কিন্তু যে প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ মঞ্জুর হয়েছে সে প্রতিষ্ঠান লোন-অ্যাকাউন্ট খুলেছে ঋণ মঞ্জুরেরও এক সপ্তাহ পর। অস্তিত্বহীন জমির ভুয়া দলিল তৈরি করে সেটির অবিশ্বাস্য মূল্য দেখিয়ে ‘কো-লেটারাল’ রাখা হয়েছে। জমির মালিক জানেন না অথচ তার জমি বেসিক ব্যাংকের ‘বন্ধকী সম্পত্তি’ হয়ে গেছে ‘থার্ড পার্টি’ হিসেবে।
দুদক কর্মকর্তা আরও জানান, জামালপুর সদর ও বিভিন্ন মৌজার শত শত জমি ‘বন্ধক’ দেখানো হয়েছে বেসিক ব্যাংকে। জামালপুরের একটি পুকুরের স্থানীয় বাজারমূল্য প্রায় ২৫ হাজার টাকা। বেসিক ব্যাংক সেটিকে ৫ কোটি টাকা মূল্য ধরে ঋণ দিয়েছে। এভাবে গুলশান শাখা থেকে অন্তত এক ডজন শিপিং কোম্পানিকে ৩শ’ কোটি টাকা ঋণ দেয়া হয়েছে যার সবই ভুয়া। এসএফজি শিপিং লাইন, এস রিসোর্স শিপিং লাইন, এস সুহী শিপিং লাইন, শিফান শিপিং লাইন, এশিয়ান শিপিং লাইন, ল্যাবস এন্টারপ্রাইজ, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি, ডেল্টা সিস্টেমস লি., ব্রাদার্স এন্টারপ্রাইজ, গ্রিন বাংলা হোল্ডিং, কিয়েব ট্রেডিং এবং এম নাছির উদ্দিন বাসগৃহ প্রপার্টিজের মতো প্রতিষ্ঠান ঋণের অর্থ কোনোদিন ফেরত দিতে পারবে না।
ঋণের নামে ৫১৪ কোটি টাকা দেয়া হয়েছে ১৩ ব্যক্তিকে। ব্যাংকের সহায়তায় দুদকের ৬ মাস লেগেছে শুধু এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকদের অস্তিত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হতে। কথিত এসব প্রতিষ্ঠান মালিকদের অর্থ প্রদানে কোনো প্রচলিত পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়নি। মঞ্জুরকৃত ঋণের অর্থ আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে চেকের মাধ্যমে দেয়ার নিয়ম হলেও আবদুল হাই বাচ্চুর মৌখিক নির্দেশে তাদের টাকা দেয়া হয় নগদ, বস্তায় ভরে। ব্যক্তিগত ও বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় টাকার বস্তার ট্রাক রাজধানী অতিক্রম করেছে রাতের অন্ধকারে। আবদুল হাই বাচ্চুর লোকেরাই এ অর্থ বহন ও ভাগ-ভাটোয়ারা করেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে শত শত কোটি টাকা ‘ঋণ মঞ্জুর’ করা হলেও এসব প্রতিষ্ঠান ছিল বাচ্চুরই প্রতিষ্ঠান। ভাই, ভাগ্নে, ভগ্নিপতি, আত্মীয়স্বজন এবং নিকট সম্পর্কীয় ব্যক্তিদের দিয়ে বাচ্চু অর্থ সরান।
নাম প্রকাশে আপত্তি জানিয়ে ওই দুদক কর্মকর্তা জানান, অনুসন্ধান শুরুর পর অন্তত ৩০ জন কথিত ‘ঋণগ্রহীতা’ ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করেছেন। তারা তাকে জানিয়েছেন, তার নামে প্রতিষ্ঠান খুলে ঋণ নেয়া হয়েছে এটি তিনি জানতেন না। কোনো কোনো ঋণগ্রহীতা জানিয়েছেন, তার প্রতিষ্ঠানের নামে হয়তো ঋণ মঞ্জুর করা হয়েছে ৩৫ কোটি টাকা। কিন্তু তিনি বুঝে পেয়েছেন ১৫ কোটি টাকা। এখন তাকে নিতে হচ্ছে ২০ কোটি টাকার ঋণের দায়। অথচ খেলাপি হিসেবে সব সম্পত্তি নিলামে ওঠালেও ২ কোটি টাকার মূল্য উঠবে না।
দুদক কর্মকর্তা জানান, বাসার কাজের বুয়ার নামে প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে তার বিপরীতে লোন নিয়েছেন- এমন ঘটনা রয়েছে অন্তত ৫০টি। সাড়ে ৭ বছরের কন্যাশিশুকে প্রতিষ্ঠানের মালিক বানিয়ে বিপরীতে দেয়া হয়েছে সাড়ে তিন কোটি টাকা। যা এখন সুদে-আসলে বেড়ে কয়েক গুণ হয়েছে। ব্যক্তিগত গাড়ির ড্রাইভার, অফিসের কর্মচারী, নিরাপত্তাকর্মীর নামে খোলা প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে ঋণ দেয়া হয়েছে দুই হাজার কোটি টাকা। এভাবে বেসিক ব্যাংকে টানা ৩ বছর ধরে ঋণের আওতায় লোপাট হয়েছে সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা। যা সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চু এবং অধীনস্থ ৬ থেকে ১০ কর্মকর্তার সরাসরি তত্ত্বাবধানে সংঘটিত হয়েছে। তবে লোপাট হয়ে যাওয়া অর্থের অংক, বিভিন্ন পর্যায়ে অর্থের সুবিধাভোগী এবং সংশ্লিষ্টতা মিলিয়ে ব্যক্তির সংখ্যা শত শত। দুদকের অনুসন্ধানে লুণ্ঠন প্রক্রিয়া রূপকল্প পরিষ্কার হয়ে উঠলেও একটিমাত্র প্রতিবেদনেই সামগ্রিক চিত্র তুলে আনা সম্ভব নয় বলে জানান দুদকের ওই কর্মকর্তা। তাই প্রথম দফায় ৫০টি পৃথক ঘটনায় ৬০টি মামলার বিষয়বস্তু সুনির্দিষ্টকরণের কাজ চলছে। অনুসন্ধানের বিস্তৃতি বাড়লে বাড়বে মামলা ও আসামির সংখ্যা। প্রায় সব মামলায় আবদুল হাই বাচ্চু এবং তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ফখরুল ইসলামকে আসামি করার উপকরণ রয়েছে বলে জানান তিনি।
বেসিক ব্যাংকের অনুসন্ধান সম্পর্কে জানতে চাইলে দুদক কমিশনার (অনুসন্ধান) ড. নাসির উদ্দীন আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, এটি (বেসিক ব্যাংক বিষয় অনুসন্ধান) সম্ভবত আরও সময় নেবে। কার কী সংশ্লিষ্টতা এটি দালিলিকভাবে সুনির্দিষ্ট করতে হবে। অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজনকেও ছাড় দেয়ার প্রশ্ন অমূলক।
সূত্র ঃ দৈনিক যুগান্তর  ০২ আগস্ট, ২০১৫

বিনিয়োগকারীদের ভুল বার্তা দেবে কেইপিজেড সমস্যা

0 comments

মেট্রো চেম্বারের আলোচনা

বিনিয়োগকারীদের ভুল বার্তা দেবে কেইপিজেড সমস্যা

জমি নিয়ে সরকারের সঙ্গে বেসরকারি কোরিয়ান ইপিজেড (রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা) কর্তৃপক্ষের যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, তা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে খারাপ বা ভুল বার্তা দেবে। দ্রুত এর সমাধান না হলে তা বিদেশি বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করতে পারে। 
দেশের শতবর্ষের পুরোনো ব্যবসায়ী সংগঠন মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের বিনিয়োগের নতুন অধ্যায়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এ অভিমত প্রকাশ করেন গবেষক, ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদেরা। আয়োজনের সহ-আয়োজক ছিল বেসরকারি গবেষণা সংস্থা দক্ষিণ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (এসএএনইএম বা সানেম)। গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর মতিঝিলে মেট্রো চেম্বারের নিজস্ব সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। 
সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, কেইপিজেড সমস্যা বাংলাদেশ সম্পর্কে বিদেশিদের কাছে একটি খারাপ বার্তা দেবে। তাই সরকারের উচিত বিনিয়োগ বোর্ডের মাধ্যমে এ সমস্যার দ্রুত সমাধানে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া। পাশাপাশি তিনি বিনিয়োগ বাড়াতে সম্প্রসারণমূলক মুদ্রানীতি গ্রহণেরও পরামর্শ দেন।
সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথমার্ধের জন্য সংযত ও সতর্কতামূলক মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে।
বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে সরকার ১৯৯৯ সালে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বেসরকারি উদ্যোগে ইপিজেড প্রতিষ্ঠার জন্য কোরিয়ান প্রতিষ্ঠান ইয়ংওয়ানকে ২ হাজার ৫০০ একর জমি বরাদ্দ দেয়। কিন্তু সম্প্রতি সরকার কেইপিজেড কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে দুই হাজার একর জমি ফেরত নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করে। এ নিয়ে সরকার ও কেইপিজেড কর্তৃপক্ষের মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হয়। 
সাবেক গভর্নর ফরাসউদ্দিনের মতে, আলোচনার ভিত্তিতে কেইপিজেড সমস্যার সমাধান সম্ভব। প্রয়োজনে সরকার কেইপিজেড কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করে পারস্পরিক দেনা-পাওনার ভিত্তিতে সমস্যার সমাধান করতে পারে। এমনকি আলোচনার ভিত্তিতে সুসম্পর্ক বজায় রেখেই কেইপিজেড কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সরকার কিছু জমি ফেরত নিতে পারে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান এস এ সামাদ বলেন, কেইপিজেড বিষয়ে বিনিয়োগ বোর্ডের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তাই এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বোর্ডের খুব বেশি করারও নেই। তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধির জন্য যেসব নীতি প্রণয়ন করা হয় সেগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক ও সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলেন, সরকার ২০২০ সালের মধ্যে ৮ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রবৃদ্ধির যে লক্ষ্য ঠিক করেছে বিদ্যমান নীতি সহায়তা ও অবকাঠামো দিয়ে সেটি অর্জন করা সম্ভব নয়। একদিকে সরকার বলছে, বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ছে, অন্যদিকে বিদ্যুৎ-সংযোগ পাচ্ছেন না শিল্পোদ্যোক্তারা। তিনি বলেন, জিডিপি প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি বেসরকারি খাত। কিন্তু বেসরকারি খাতের বিনিয়োগে এক ধরনের স্থবিরতা বিরাজ করছে। এ অবস্থায় বিনিয়োগ বাড়াতে হলে নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং অবকাঠামো উন্নয়ন খুবই জরুরি। দুই দশক ধরে দেশে বড় ধরনের কোনো নীতি সংস্কার হয়নি। 
মেট্রো চেম্বারের সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ছাড়া দেশি-বিদেশি কোনো বিনিয়োগই বাড়বে না। বর্তমানে যে বিদেশি বিনিয়োগ আসছে সেটিকে অর্থের দিক থেকে বিবেচনা না করে ওই বিনিয়োগের মান বিবেচনা করতে হবে। 
ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বলেন, দিন দিন দেশে ব্যবসার খরচ বাড়ছে আর কমছে মুনাফা। ফলে বিনিয়োগের আগ্রহ হারাচ্ছেন উদ্যোক্তারা। 
বিনিয়োগ খরা দূর করতে ব্যবসায়ীদের সমস্যার কথা শুনতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গবেষক ও ব্যবসায়ীদের নির্দিষ্ট সময় পরপর বৈঠকের দাবি তোলেন প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংগঠন সেন্টার ফর এনআরবি-এর চেয়ারম্যান এম এস সেকিল চৌধুরী। তাঁর এ দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করেন মেট্রো চেম্বারের নেতারাও।
সেকিল চৌধুরী বলেন, ব্যবসায়ীদের অভাব-অভিযোগের কথা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছায় না। প্রধানমন্ত্রীর আশপাশে যাঁরা থাকেন তাঁরা প্রধানমন্ত্রীকে প্রকৃত চিত্র জানান না। প্রধানমন্ত্রী যা শুনতে পছন্দ করেন সেটুকুই তাঁরা বলেন। তাই বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সমস্যার প্রকৃত চিত্র জানতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নির্দিষ্ট সময় পরপর বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী ও গবেষকদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া দরকার। তিনি আরও বলেন, সব বিষয়ে রাজনীতিবিদেরাই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। তাও রাজনৈতিক কোনো আদর্শ থেকে নয়, গুটিকয়েক মানুষের লাভক্ষতির বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। 
সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন সানেমের চেয়ারম্যান বজলুল হক খোন্দকার, সাবেক সচিব সিদ্দিকুর রহমান ও সোহেল আহমেদ চৌধুরী, উত্তরা গ্রুপের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান প্রমুখ।
সূত্র ঃ 2রা আগষ্ট 15 , দৈনিক প্রথম আলো

Advertisement

 

Copyright 2008 All Rights Reserved Revolution Two Church theme by Brian Gardner Converted into Blogger Template by Bloganol dot com