আন্তর্জাতিক বাজারে দাম অর্ধেকে নেমেছে অথচ দেশীয়
বাজারে কেজি প্রতি দ্বিগুণ টাকা আদায়
গুঁড়ো দুধে অস্বাভাবিকহারে মুনাফা করছে ব্যবসায়ীরা
কামাল উদ্দিন সুমন : ননীবিহীন ও ননীযুক্ত গুঁড়ো দুধের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে অর্ধেকে নেমেছে অথচদেশীয় বাজারে অস্বাভাবিক মুনাফায় বিক্রি করছেন আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা। ফলে চড়া দামেই পণ্যটি কিনতে বাধ্য হচ্ছে ভোক্তারা।আন্তর্জাতিক বাজারে গুঁড়ো দুধের দাম কমে যাওয়ার সুফল পাচ্ছে না ভোক্তারা। এমনকি বেশি দামে গুঁড়ো দুধ কিনতে গিয়ে ভোক্তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
বিদেশ থেকে গুঁড়ো দুধ রফতানিকারক শীর্ষতম প্রতিষ্ঠান ফন্টেরা আয়োজিত গ্লোবাল ডেইরি ট্রেড নিলামে (জিডিটি অকশন) জুলাই মাসে মাঝামাঝি সময়ে প্রতি টন ননীবিহীন গুঁড়ো দুধ বিক্রি হয়েছিল ১ হাজার ৭০২ ডলারে। সে অনুযায়ী প্রতি ডলারের বিনিময় মূল্য ৭৮ টাকা ধরা হলে প্রতি টন দুধের দাম পড়ে ১ লাখ ৩২ হাজার ৭৫৬ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কেজির মূল্য দাঁড়ায় ১৩২ টাকা ৭৬ পয়সা।
অন্যদিকে আমদানিকারকদের আমদানি শুল্ক ও অন্যান্য ব্যয় টনপ্রতি ১ লাখ টাকা। এ হিসাবে অন্যান্য ব্যয়সহ প্রতি কেজি ননীবিহীন গুঁড়ো দুধের মোট আমদানি খরচ ২৩২ টাকা ৭৬ পয়সা।
অন্যদিকে দেশের বাজারে পাইকারিতে প্রতি কেজি ননীবিহীন গুঁড়ো দুধ বিক্রি হচ্ছে ৩২০-৪৩২ টাকায়। একই দুধ খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৪৫০ টাকায়।
এদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাব অনুযায়ী, প্রতি কেজি ডানো ৬৫০-৬৮০ টাকায়, ডিপ্লোমা ৬১০-৬৪০, ফ্রেশ ৪৮০-৫১০ এবং মার্কস ৪৮০-৫১০ টাকায় বিক্রি হয়।
রফতানিকারক শীর্ষতম প্রতিষ্ঠান ফন্টেরার জুলাই মাসের মাঝামাঝি প্রতি টন ননীযুক্ত গুঁড়ো দুধ বিক্রি হয়েছিল ১ হাজার ৮৪৮ ডলার বা ১ লাখ ৪৪ হাজার ১৪৪ টাকায়। এ হিসাবে প্রতি কেজির দাম পড়ে ১৪৪ টাকা ১৪ পয়সা। আমদানি শুল্কসহ অন্যান্য ব্যয় টনপ্রতি ১ লাখ টাকা হলে প্রতি কেজি ননীযুক্ত গুঁড়ো দুধের মোট আমদানি খরচ দাঁড়ায় ২৪৪ টাকা ১৪ পয়সায়। আর ননীযুক্ত গুঁড়ো দুধ পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে ৪৫০-৬০০ টাকায়। খুচরা বাজারে এর দর ৪৮০-৬৮০ টাকা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় প্রতি কেজি ননীবিহীন দুধে অতিরিক্ত লাভ করা হচ্ছে ৭৮ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ৮৭ টাকা ২৪ পয়সা এবং ননীযুক্ত ২৩৫ টাকা ৮৬ পয়সা থেকে ৩২৬ টাকা ৫০ পয়সা।
বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের মনিটরিং সেল থেকে, গুঁড়ো দুধের বাজারে অস্বাভাবিক মুনাফার প্রবণতা জানা যায়। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, স্বল্প ননীযুক্ত ৪০০ গ্রাম গুঁড়ো দুধের আমদানি ব্যয় ৯৯ টাকা ২০ পয়সা, শুল্ক ৫ টাকা, ভ্যাট ১৫ টাকা ৬০ পয়সা, অগ্রিম কর ৫ টাকা, ব্যাংকের সুদ ৩ টাকা ১০ পয়সা, যাতায়াত ও প্যাকেজিং ব্যয় ১২ টাকা। এর বাইরে প্রশাসন, বিতরণ, অন্যান্য খরচ ৫ টাকা। এর সঙ্গে আমদানিকারকের ৬, পরিবেশকের ৪ এবং খুচরা ব্যবসায়ীদের ১০ শতাংশসহ সব পর্যায়ের মুনাফা ২৯ টাকা যোগ করলে মোট দাঁড়ায় ১৭৩ টাকা ৮০ পয়সা। অথচ ৪০০ গ্রামের প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে ৪২৫-৪৮০ টাকায়।
ননীবিহীন গুঁড়ো দুধ আমদানিকারক ব্যবসায়ী বশির উদ্দিন জানান, প্রতি টন গুঁড়ো দুধে ৮০ হাজার টাকা রাজস্ব দিতে হয়। এছাড়া অন্যান্য ব্যয় রয়েছে টনপ্রতি ২০ হাজার টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমায় তারাও পর্যায়ক্রমে কমিয়ে বিক্রি করছেন। তবে ইউরোপে উৎপাদিত ননীবিহীন দুধ পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকায়।
ডানো দুধের পরিবেশক মৌলভীবাজারের একজন ব্যবসায়ী বলেন, মুক্তবাজার অর্থনীতির কারণে প্রতিযোগিতা রয়েছে বাজারে। কেউ চাইলেও বেশি দামে বিক্রি করতে পারবেন না। বর্তমানে পরিবেশক পর্যায়ে প্রতি কেজি ডানো বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ টাকায়।
মগবাজার ওয়ারলেস রেলগেট স্বপ্ন শপিংমলে বাজার করতে আসা ওয়ারলেস এলাকার গৃহিণী পান্না আক্তার জানান,আয়ের সাথে ব্যয়ের হিসেব মিলছে না। পণ্যের অস্বাভাবাকি দাম বৃদ্ধির কারণে আমাদের মতো মধ্যবিত্তের লোকজন হিমশিম খাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে গুঁড়ো দুধের দাম অনেক কমেছে অথচ এখানে এর কোন প্রভাব নেই। কেজি প্রতি প্রায় দ্বিগুণ লাভ করছে। অথচ আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে সেখানে খুব তাড়াতাড়ি ভোক্তা পর্যায়ে প্রভাব পড়ে।
বিদেশ থেকে গুঁড়ো দুধ রফতানিকারক শীর্ষতম প্রতিষ্ঠান ফন্টেরা আয়োজিত গ্লোবাল ডেইরি ট্রেড নিলামে (জিডিটি অকশন) জুলাই মাসে মাঝামাঝি সময়ে প্রতি টন ননীবিহীন গুঁড়ো দুধ বিক্রি হয়েছিল ১ হাজার ৭০২ ডলারে। সে অনুযায়ী প্রতি ডলারের বিনিময় মূল্য ৭৮ টাকা ধরা হলে প্রতি টন দুধের দাম পড়ে ১ লাখ ৩২ হাজার ৭৫৬ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কেজির মূল্য দাঁড়ায় ১৩২ টাকা ৭৬ পয়সা।
অন্যদিকে আমদানিকারকদের আমদানি শুল্ক ও অন্যান্য ব্যয় টনপ্রতি ১ লাখ টাকা। এ হিসাবে অন্যান্য ব্যয়সহ প্রতি কেজি ননীবিহীন গুঁড়ো দুধের মোট আমদানি খরচ ২৩২ টাকা ৭৬ পয়সা।
অন্যদিকে দেশের বাজারে পাইকারিতে প্রতি কেজি ননীবিহীন গুঁড়ো দুধ বিক্রি হচ্ছে ৩২০-৪৩২ টাকায়। একই দুধ খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৪৫০ টাকায়।
এদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাব অনুযায়ী, প্রতি কেজি ডানো ৬৫০-৬৮০ টাকায়, ডিপ্লোমা ৬১০-৬৪০, ফ্রেশ ৪৮০-৫১০ এবং মার্কস ৪৮০-৫১০ টাকায় বিক্রি হয়।
রফতানিকারক শীর্ষতম প্রতিষ্ঠান ফন্টেরার জুলাই মাসের মাঝামাঝি প্রতি টন ননীযুক্ত গুঁড়ো দুধ বিক্রি হয়েছিল ১ হাজার ৮৪৮ ডলার বা ১ লাখ ৪৪ হাজার ১৪৪ টাকায়। এ হিসাবে প্রতি কেজির দাম পড়ে ১৪৪ টাকা ১৪ পয়সা। আমদানি শুল্কসহ অন্যান্য ব্যয় টনপ্রতি ১ লাখ টাকা হলে প্রতি কেজি ননীযুক্ত গুঁড়ো দুধের মোট আমদানি খরচ দাঁড়ায় ২৪৪ টাকা ১৪ পয়সায়। আর ননীযুক্ত গুঁড়ো দুধ পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে ৪৫০-৬০০ টাকায়। খুচরা বাজারে এর দর ৪৮০-৬৮০ টাকা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় প্রতি কেজি ননীবিহীন দুধে অতিরিক্ত লাভ করা হচ্ছে ৭৮ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ৮৭ টাকা ২৪ পয়সা এবং ননীযুক্ত ২৩৫ টাকা ৮৬ পয়সা থেকে ৩২৬ টাকা ৫০ পয়সা।
বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের মনিটরিং সেল থেকে, গুঁড়ো দুধের বাজারে অস্বাভাবিক মুনাফার প্রবণতা জানা যায়। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, স্বল্প ননীযুক্ত ৪০০ গ্রাম গুঁড়ো দুধের আমদানি ব্যয় ৯৯ টাকা ২০ পয়সা, শুল্ক ৫ টাকা, ভ্যাট ১৫ টাকা ৬০ পয়সা, অগ্রিম কর ৫ টাকা, ব্যাংকের সুদ ৩ টাকা ১০ পয়সা, যাতায়াত ও প্যাকেজিং ব্যয় ১২ টাকা। এর বাইরে প্রশাসন, বিতরণ, অন্যান্য খরচ ৫ টাকা। এর সঙ্গে আমদানিকারকের ৬, পরিবেশকের ৪ এবং খুচরা ব্যবসায়ীদের ১০ শতাংশসহ সব পর্যায়ের মুনাফা ২৯ টাকা যোগ করলে মোট দাঁড়ায় ১৭৩ টাকা ৮০ পয়সা। অথচ ৪০০ গ্রামের প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে ৪২৫-৪৮০ টাকায়।
ননীবিহীন গুঁড়ো দুধ আমদানিকারক ব্যবসায়ী বশির উদ্দিন জানান, প্রতি টন গুঁড়ো দুধে ৮০ হাজার টাকা রাজস্ব দিতে হয়। এছাড়া অন্যান্য ব্যয় রয়েছে টনপ্রতি ২০ হাজার টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমায় তারাও পর্যায়ক্রমে কমিয়ে বিক্রি করছেন। তবে ইউরোপে উৎপাদিত ননীবিহীন দুধ পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকায়।
ডানো দুধের পরিবেশক মৌলভীবাজারের একজন ব্যবসায়ী বলেন, মুক্তবাজার অর্থনীতির কারণে প্রতিযোগিতা রয়েছে বাজারে। কেউ চাইলেও বেশি দামে বিক্রি করতে পারবেন না। বর্তমানে পরিবেশক পর্যায়ে প্রতি কেজি ডানো বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ টাকায়।
মগবাজার ওয়ারলেস রেলগেট স্বপ্ন শপিংমলে বাজার করতে আসা ওয়ারলেস এলাকার গৃহিণী পান্না আক্তার জানান,আয়ের সাথে ব্যয়ের হিসেব মিলছে না। পণ্যের অস্বাভাবাকি দাম বৃদ্ধির কারণে আমাদের মতো মধ্যবিত্তের লোকজন হিমশিম খাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে গুঁড়ো দুধের দাম অনেক কমেছে অথচ এখানে এর কোন প্রভাব নেই। কেজি প্রতি প্রায় দ্বিগুণ লাভ করছে। অথচ আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে সেখানে খুব তাড়াতাড়ি ভোক্তা পর্যায়ে প্রভাব পড়ে।
source : daily sangram,17th Aug 2015

0 comments:
Post a Comment