দুর্নীতির আকাশ ছুঁয়েছে বিমান
- আর দুর্নীতি যেন এখানের নিয়ম
সরোয়ার আলম ও আশরাফুল হক রাজীব
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রায় প্রতিটি শাখায় চলছে দুর্নীতির
'মহোৎসব'। প্রতিটি শাখায় রয়েছে অসাধু চক্র বা সিন্ডিকেট। তারা লুটপাট চালাচ্ছে
বেপরোয়াভাবে। তাদের দাপটের কাছে কর্তৃপক্ষ অসহায়। নানা মহল থেকে অভিযোগ পেয়ে দফায়
দফায় কমিটি গঠন করে বিমান কর্তৃপক্ষ তদন্ত চালায়। কমিটিগুলো তদন্ত প্রতিবেদনও জমা
দেয়। সেসব প্রতিবেদনে উঠে আসে দুর্নীতি-অনিয়ম-অর্থ লুটপাটের ভয়াবহ সব চিত্র।
প্রতিবেদনে অসাধু চক্রের সদস্যদের নামধাম পর্যন্ত উল্লেখ থাকে। কিন্তু তারা এতটাই
প্রভাবশালী যে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারে না কর্তৃপক্ষ। ফলে বছরের পর
বছর তারা একই অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে অবলীলায়। বিভিন্ন তদন্ত প্রতিবেদন ও
কর্মকর্তা-কর্মচারী সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
জানা যায়, বিমানের হ্যান্ডলিং কাজে, কেনাকাটায়, মেরামতে, মালামাল
পরিবহনে- প্রতিটি ক্ষেত্রেই রয়েছে সিন্ডিকেটের অপকর্ম। বিমানে খাবারদাবার সরবরাহ
নিয়ন্ত্রণ করে সিন্ডিকেট। লোক নিয়োগ নিয়ন্ত্রণ করে সিন্ডিকেট। জ্বালানি তেল পাচার
করে দিচ্ছে সিন্ডিকেট। অসাধু সিন্ডিকেটগুলোয় পাইলট, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কর্মচারী,
সিবিএ নেতা, সিভিল এভিয়েশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জড়িত বলে অভিযোগ আছে।
বেসরকারি বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন কালের
কণ্ঠকে বলেন, বিমানকে লাভজনক করতে সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে। রাষ্ট্রের এই সম্পদকে
কেউ ধ্বংস করতে পারবে না। অসাধু সিন্ডিকেটের তৎপরতা ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হবে।
এরই মধ্যে তাদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে। বিমানের শিডিউল বিপর্যয় সম্পর্কে
মন্ত্রী বলেন, অভ্যন্তরীণ রুটে মাত্র দুটি উড়োজাহাজ চলছে। যাত্রীর তুলনায় এগুলোর
সংখ্যা কম। উড়োজাহাজ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। তার পরও নির্দিষ্ট সময়ে যাতে বিমান ছেড়ে
যায় সেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক রুটগুলোতে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। এখন নির্দিষ্ট সময়েই বিমান ছাড়ছে।
আন্তর্জাতিক রুটগুলোতে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। এখন নির্দিষ্ট সময়েই বিমান ছাড়ছে।
এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বিমানে কোনো চোরের জায়গা হবে না।
তাদের প্রতিরোধ করা হবেই। কেউ অপতৎপরতা চালালে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া
হবে। কাউকে ছাড় দেওয়ার প্রশ্নই আসে না।
ভয়ংকর হ্যান্ডলিং শাখা : বিমান সূত্র জানায়, নানা অনিয়ম ও
দুর্নীতির অভিযোগে বিমান কর্তৃপক্ষ জিসিই (গ্রাউন্ড সাপোর্ট ইকুইপমেন্ট) বিভাগের
সব বিষয়ে তদন্ত করে দেখার জন্য গত বছর সাবেক পরিচালক (গ্রাহক সেবা) কানাডিয়ান
নাগরিক জর্জ-রি-লিভার্সকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করে। এক সদস্যের এই কমিটির
প্রাথমিক তদন্তে হ্যান্ডলিং শাখার জেনারেল ম্যানেজার আমিনুল ইসলামসহ পুরো বিভাগের
দুর্নীতির চিত্র এবং এর সঙ্গে জড়িত সবার নাম তুলে ধরেন তিনি। এই প্রতিবেদন দেওয়ার
পর রোষানলে পড়তে হয়েছে তাঁকে। শেষ পর্যন্ত তিনি চাকরি ছেড়ে স্বদেশে চলে যান।
পরে ওই বছরই বিমান কর্মকর্তাদের দিয়ে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা
হয়। মাস ছয়েক আগে কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এ প্রতিবেদনেও
দুর্নীতি-লুটপাটের জন্য হ্যান্ডলিং শাখার জেনারেল ম্যানেজার আমিনুল ইসলামকেই দায়ী
করা হয়েছে। তাঁর সঙ্গে শ্রমিক লীগ সমর্থিত সিবিএর শীর্ষ নেতাদের সুসম্পর্ক থাকার
কথা বলা হয়েছে প্রতিবেদনে। আমিনুল ইসলাম মোটর ট্রান্সপোর্ট (এমটি) শাখার মতো
গুরুত্বপূর্ণ স্থানেও কাজ করে আসছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিমানবন্দরে দেশি-বিদেশি সব ফ্লাইট
ট্যাক্সিওয়েতে আসার পরপরই এয়ারক্রাফটের ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর গ্রাউন্ড
সাপোর্ট যন্ত্রপাতির মাধ্যমে চলে এয়ারক্রাফটের সব কার্যক্রম। বিদ্যুৎ সরবরাহ করা
হয় গ্রাউন্ড পাওয়ার ইউনিট (জিপিইউ) দিয়ে। এয়ারকন্ডিশন চলে এসি ভ্যানের মাধ্যমে।
পানি সরবরাহ হয় 'ওয়াটার কার্ড', বাথরুমগুলোর মলমূত্র পরিষ্কার করতে 'পাঞ্চ কার্ড',
উড়োজাহাজকে সরাতে 'পুশ কার্ড' এবং বন্ধ ইঞ্জিন পুনরায় চালুর জন্য 'স্টার্ট কার্ড' ব্যবহার
করতে হয়। তা ছাড়া যাত্রীসেবার জন্য কন্ট্রোলার প্যালেস ট্রান্সপোর্টার (সিপিটি),
সেফটি প্যাসেঞ্জার প্যালেস (সিপিএল), মালামাল পরিবহনের জন্য টো-ট্রাক্টর, ফর্ক
লিফট, প্যাসেঞ্জার স্টেপ ও বেল্ট লোডার ব্যবহৃত হয়। উড়োজাহাজে জ্বালানি তেল
সরবরাহ, ফ্লাইট ছাড়ার আগে প্রতিটি যন্ত্রপাতি তল্লাশি করা, উড়োজাহাজের মেরামত ও
মেইনটেন্যান্স, বোর্ডিং কার্ড ইস্যু, লাগেজ আনা-নেওয়া, ওজন করাসহ আনুষঙ্গিক সব
কিছু গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের মাধ্যমে করতে হয়। একটি বিদেশি উজোড়াহাজে এক ঘণ্টা
বিদ্যুৎ সার্ভিস দিলে বিমানকে জিপিইউ বাবদ ভাড়া দিতে হয় ১৪ হাজার ৭০০ টাকা।
প্রতিটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজে গড়ে পাঁচ-ছয় ঘণ্টা ও কার্গো ফ্লাইটে গড়ে তিন-চার
ঘণ্টা জিপিইউ প্রয়োজন হয়। সে হিসাবে প্রতিদিন ৩৩০ ঘণ্টা হিসাবে এই জিপিইউ থেকে
বিমানের আয় হওয়ার কথা মাসে ১৫ কোটি টাকা। কিন্তু নথিপত্রে দেখানো হয় পাঁচ কোটি টাকা।
বাকি ১০ কোটি টাকাই তসরুপ করা হয়। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, এয়ারকন্ডিশন ইউনিট থেকে
মাসে গড়ে ২৫ কোটি টাকা আয় হলেও দেখানো হয় ১৩ কোটি টাকা। প্যাসেঞ্জার বাস প্রতিটি
একবার চললে মাসে আয় হওয়ার কথা পাঁচ কোটি টাকা, কিন্তু আয় দেখানো হয় মাত্র ৬০ লাখ
টাকা। এয়ারক্রাফট পুশ টো-ট্রাক্টর থেকে মাসে গড়ে পাঁচ কোটি টাকার জায়গায় আয় দেখানো
হচ্ছে দেড় কোটি টাকা। এয়ারক্রাফট টো-বার থেকে মাসে দেড় কোটি টাকার স্থলে ১৫ লাখ,
কার্গো লোডার থেকে দুই কোটির স্থলে ৬৫ লাখ, মেইন ডেক কার্গো লোডার থেকে পাঁচ কোটি
টাকার স্থলে দুই কোটি, ওয়াটার সার্ভিস ট্রাক থেকে সাত কোটি টাকার স্থলে তিন কোটি,
ট্রলি সার্ভিস ট্রাক থেকে মাসে সাড়ে সাত কোটির স্থলে তিন কোটি, কনভেয়র বেল্ট থেকে
মাসে এক কোটি টাকার স্থলে ৫০ লাখ, কার্গো ব্যাগেজ কার্ট ট্রলি থেকে মাসে আয় ১৫ লাখ
টাকার স্থলে তিন লাখ টাকা, ফর্ক লিফট থেকে মাসে আট কোটি টাকার স্থলে চার কোটি
টাকা, ক্রু ট্রান্সপোর্ট কোচ থেকে দুই কোটি টাকার স্থলে এক কোটি টাকা, চার টন
মোবাইল ক্রেন থেকে মাসে ২০ কোটি টাকার স্থলে ছয় থেকে সাত কোটি টাকা, ইন্টেরিয়র
এয়ারকন্ডিশনার ক্লিনিং থেকে মাসে সাত কোটি টাকার স্থলে তিন কোটি টাকা আয় দেখানো
হয়। সিন্ডিকেট পুরো টাকাই আত্মসাৎ করছে বলে জানান বিমানের এক কর্মকর্তা। তিনি
বলেন, সিন্ডিকেটের প্রতিটি সদস্য প্রভাবশালী হওয়ায় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায় না।
বিমানেরই এক কর্মকর্তার ভাষ্য, সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হয় হ্যান্ডলিং
শাখায়। বছর দুয়েক আগে এই শাখার অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেবার মান বাড়ানোর জন্য ৭৫০ কোটি
টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অসাধু সিন্ডিকেট এই টাকা থেকে ৩৫০ কোটি টাকা
লুটে নিয়েছে।
অভিযোগ সম্পর্কে হ্যান্ডলিং শাখার জিএম আমিনুল ইসলামের কাছে জানতে
চাইলে কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, 'আমার কাজে ঈর্ষান্বিত হয়ে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা
চলছে। আমি কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত না।'
মেরামতেও দুর্নীতি : বিমান মেরামতের নামেও টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে
একাধিক চক্র। ২০১৩ সালে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পর্যন্ত বিষয়টি গড়িয়েছে। বিমান
এ-৩১০ (এস-২ এডিকে) এয়ারবাস ২০১৩ সালে সিঙ্গাপুরে নিয়ে মেরামত করার কাজে নানা
অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। দুদক অভিযোগ পায়, ওই এয়ারবাস মেরামতের নামে ২০০ কোটি টাকা
হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে নথিপত্র চেয়ে বিমানের তৎকালীন এমডি ও প্রধান নির্বাহী
কেভিন স্টিলের কাছে চিঠি পাঠিয়েছিল দুদক। কিন্তু বিমান দুদককে কোনো ধরনের সহায়তা
করেনি।
সূত্র জানায়, ২০১৪ সালেও আরেকটি বিমান সিঙ্গাপুরে মেরামতের নামে
১০০ কোটি টাকার অনিয়ম হয়। বিষয়টি জানতে পেরে বিমান কর্তৃপক্ষ ওই বছরই একটি তদন্ত
কমিটি গঠন করে। কিন্তু সূত্র জানায়, সিন্ডিকেটের রাজনৈতিক দাপট বেশি হওয়ায় কমিটি
কাজই করতে পারেনি। ওই কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে
বলেন, এই সিন্ডিকেটেরও হোতা হ্যান্ডলিং শাখার জিএম আমিনুল ইসলাম। তিনি সাবেক এক
মন্ত্রীর আত্মীয়। এই চক্রের আরেক প্রভাবশালী সদস্য মেরামত শাখার কর্মচারী রুহুল
আমিন। তিনি কেন্দ্রীয় শ্রমিক লীগের এক নেতার জামাতা। অসাধু সিন্ডিকেটের সদস্য
প্রায় ১৫ জন। তারা সবাই এখন কোটিপতি। তিনি আরো বলেন, চলতি বছরেও বিমানের দুটি
উড়োজাহাজ মেরামতের নামে অন্তত দেড় শ কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে।
বিমানসংশ্লিষ্টরা জানান, যান্ত্রিক ত্রুটি, ইঞ্জিন বিকল কিংবা আগুন
লাগার অভিযোগ না থাকলে খুচরা যন্ত্রাংশ কেনাবেচার সুযোগ সৃষ্টি হয় না। এই কারণেই
মূলত নানা রকম যান্ত্রিক ত্রুটি দেখিয়ে উড়োজাহাজের জন্য যন্ত্রপাতি কেনা ও
মেরামতের নামে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা লোপাট করা হচ্ছে। আবার এয়ারক্রাফটে কোনো
ত্রুটি দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে জ্বালানি তেল ফেলে দিয়ে ওই ফ্লাইটটিকে জরুরি অবতরণ
করানো হয়। এ ক্ষেত্রেও চলে অনিয়ম। ওই সিন্ডিকেট ১০ লাখ টাকার তেল ফেলে দিয়ে কোটি
টাকার বিল করেছে- এমন অভিযোগও আছে। এসব ক্ষেত্রে প্রকৌশল বিভাগের পাশাপাশি পাইলট,
কো-পাইলট, ট্রেনিং ও সেফটি বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারাও জড়িত বলে সূত্র জানায়।
অতিরিক্ত মাল বহন করায় নথি তলব দুদকের : দুদক তথ্য পায়, প্রতিদিন
অতিরিক্ত মালামাল বহন করে প্রায় দুই কোটি টাকা লুটে নেয় বিমানের কার্গো শাখার
একশ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারী। সপ্তাহখানেক আগে বিমানের চেয়ারম্যানের কাছে
এ-সংক্রান্ত নথি তলব করে দুদক। অভিযোগে বলা হয়, গত ৩ জুলাই সকাল ১০টায় লন্ডনের
একটি ফ্লাইটে (বিজি ০০১) স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত মাল বহন করা হচ্ছে বলে পাইলটরা
নিশ্চিত হন। ওই ফ্লাইটের দায়িত্বে ছিলেন ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ ইশতিয়াক ও ক্যাপ্টেন
নাদিম। আর যাত্রীর সংখ্যা ছিল ৪৯। বিমানটি ওড়ার পর পাইলটরা বুঝতে পারেন, অন্য
দিনের চেয়ে বেশি তেল খরচ হচ্ছে। তারা কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেন। লন্ডনের
হিথরো বিমানবন্দরে যাত্রীরা নেমে গেলে কার্গোতে মালামাল ওজন করা হয়। দেখা যায়,
ঢাকা থেকে দেওয়া হিসাবের চেয়েও তিন হাজার ৩৪৪ কেজি বেশি মালামাল রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন,
'প্রতিদিনই এভাবে মাল বহন করে অর্থ লুটপাট করা হচ্ছে। বিমানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা
থেকে শুরু করে অফিস সহকারী পর্যন্ত এই টাকার ভাগ পাচ্ছে। চক্রের বিরুদ্ধে আমরা
অনুসন্ধান শুরু করেছি। বিমান কর্তৃপক্ষও আমাদের সহায়তা করার আশ্বাস দিয়েছে।' এক
প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, 'লন্ডন থেকেই আমাদের কাছে অভিযোগ এসেছে। তারপর
আমরা বিষয়টি তদন্ত শুরু করি। বিমান কর্তৃপক্ষ ওই ফ্লাইটের নথি আমাদের কাছে
পাঠিয়েছে। আশা করি, অল্প সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারব।'
জ্বালানি তেলেও চক্র : বিভিন্ন তদন্ত ও কর্মী সূত্রে জানা যায়,
বিমান লোকসানের একটি বড় কারণ তেল কেনায় দুর্নীতি। একাধিক সিন্ডিকেট বিমানের তেল
লুটপাট করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। বাংলাদেশ বিমানের মোট ১১টি উড়োজাহাজে বছরে প্রায় ২২
হাজার কোটি টাকার জ্বালানি তেল প্রয়োজন হয়। তার মধ্যে বিমান ৪৬ শতাংশ বাংলাদেশ
থেকে এবং ৫৪ শতাংশ সংগ্রহ করে বিদেশ থেকে। বিমানের জ্বালানি তেলের মূল্য বাংলাদেশে
গ্যালনপ্রতি ৩২৭.১৯ টাকা। অথচ বিদেশে গ্যালনপ্রতি গড় মূল্য ২৪২.৮৮ টাকা। বিদেশের
তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানির মূল্য প্রায় ৩৩ শতাংশ বেশি। এই মূল্যবান তেল নিয়ে চলে
নানা কারসাজি। এর একটি হলো যা ক্রয় দেখানো হয়, তার চেয়ে কম তেল বিমানে ভরা হয়।
বাকিটা পাচার করে দেওয়া হয়। এই সিন্ডিকেটের মধ্যে বাদশা, রহিম, মোহাম্মদ কিবরিয়াসহ
অন্তত এক ডজন কর্মচারী সক্রিয়। তাদের সঙ্গে ঊর্ধ্বতন আটজন কর্মকর্তা জড়িত বলে
সূত্র জানায়।
খাবার কারসাজি : বিমানে পরিবেশিত খাবারের মান নিয়ে নানা প্রশ্ন
আছে। প্রায় সময়ই নিম্নমানের খাবার দেওয়া হচ্ছে বলে যাত্রীদের অভিযোগ। জানা যায়,
মালয়েশিয়া এয়ারলাইনস, ড্রাগন, মিহিনলংকা, সাউদিয়া, কাতার, এমিরেটস এয়ারলাইনসসহ
বাংলাদেশ বিমানও খাবার সংগ্রহ করে বিএফসিসি শাখার মাধ্যমে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,
পাঁচ বছর ধরে এই শাখায় নানা অনিয়ম হয়ে আসছিল। বিনা টেন্ডারেই অনেকে খাবার সরবারহ
করতে পারত। কিন্তু কোনো বছরই বিএফসিসি শাখা থেকে বিমানের কোনো আয় হতো না। কিন্তু
তিন মাস ধরে কিছুটা আয় হচ্ছে। এর কারণ অনুসন্ধানে জানা যায়, এখন ওপেন টেন্ডারের
মাধ্যমে খাবার সংগ্রহ করা হচ্ছে। গত বছর খাবার বাবদ বিএফসিসি শাখার বাজেট ছিল ১২
কোটি ৯৪ লাখ ২৮ হাজার ৪৭৭ টাকা। আর এবার বাজেট চূড়ান্ত হয়েছে ছয় কোটি টাকা।
সূত্রের দাবি, খাবারের ক্ষেত্রে যে অর্ধেক টাকাই লুটপাট হতো, বাজেটেই তার প্রমাণ
মেলে।
- See more at:
http://www.kalerkantho.com/print-edition/first


0 comments:
Post a Comment