মিরপুরে কাউন্সিলর জনির চাঁদাবাজি-দখলবাজি চরমে
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জনি ও তার বাহিনী এখন স্টার ক্যাবল নেটওয়ার্কের মালিক ও কর্মচারীদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এ বিষয়ে থানা পুলিশ, ডিএমপি কমিশনার, আইজিপি, এমনকি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও অবগত। কিন্তু প্রতিকার হয়নি। থানায় মামলা দূরে থাক পুলিশ সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) নিচ্ছে না। উপরন্তু মোটা অঙ্কের টাকা খেয়ে পুলিশ উপদেশ দিচ্ছে জনির সঙ্গে সমঝোতা করার।
গত বুধবার বিকালেও পশ্চিম শেওড়াপাড়ার আনন্দবাজার এলাকায় কাউন্সিলর জনির লোকজন কেটে নিয়ে গেছে স্টার ক্যাবল নেটওয়ার্কের লক্ষাধিক টাকার সংযোগÑ তার। গ্রাহকদের হুমকি দিয়ে গেছে, প্রতিমাসের বিল জনিকে দিতে। নয় তো লাশ পড়বে। গতকাল বিকালে আমাদের সময়ের কাছে এসব অভিযোগ করেন স্টার ক্যাবলের মালিক আকরামুল হক। তবে এসব অভিযোগ অসত্য বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত জনি।
আকরামুল হক বলেন, শ্যাওড়াপাড়ায় দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে তিনি ডিশ লাইন সংযোগের ব্যবসা করে আসছেন। এলাকায় তার গ্রাহক সংখ্যা ৫ হাজারেরও বেশি। কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার আগেই হুমায়ুন রশিদ জনি এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে তার কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন। না পেয়ে তিনি একপর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটি দখলে নিতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। গত বছরের ১০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় জনি ৫০-৬০ জন সাঙ্গোপাঙ্গ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি দখল করতে যান। বিষয়টি পুলিশে জানালে সেবারের মতো জনি ও তার লোকজন আইনি ঝামেলার ভয়ে সরে যায়। এসব বিষয়ে ওই সময় মিরপুর থানায় একটি জিডি করেছিলেন প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার নিজাম উদ্দিন। বিষয়টি ক্যাবল টিভি উন্নয়ন সম্মিলিত পরিষদেও জানানো হয়। তাদের হস্তক্ষেপে কিছুদিন শান্ত ছিলেন জনি। কিন্তু কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর বেপরোয়া হয়ে ওঠেন তিনি। ওই নেটওয়ার্কের ৩ ভাগের ২ ভাগ লাইনই জনি দখলে নিয়ে নেন। শুধু তাই নয়, পিস্তল নিয়ে গ্রাহকদের ঘরে ঘরে গিয়ে তার লোকজন জানিয়ে দিচ্ছে তারা জনির লোক এবং তাদের কাছেই বিল পরিশোধ করতে হবে। গ্রাহকরাও নিরুপায় হয়ে তাদের হাতেই বিলের টাকা তুলে দিচ্ছেন। এ বাবদ কোনো রিসিটও দেওয়া হচ্ছে না। জনি বাহিনীর ভয়ে গ্রাহকরাও এখন তটস্থ।
আকরামুল আরও বলেন, তার ব্যবসা দখলের অভিযোগ এনে থানায় একাধিকবার তিনি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। কিন্তু নানান ছুতা দেখিয়ে তা মামলা হিসেবে গ্রহণ করছে না পুলিশ। উল্টো থানার ওসি আকরামুলকে বলেছেন, ওরা সরকারি দলের লোক, ঝামেলায় গিয়ে কী লাভ? যা চায়, মিটিয়ে মীমাংসা করে নিন। পুলিশের এহেন ভূমিকার কারণে ব্যবসায়ীরাও আতঙ্কিত, জনির বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেন না।
অবশ্য, মামলা নেওয়া হচ্ছে নাÑ এমন অভিযোগ ‘মনগড়া’ বলে অভিহিত করেছেন মিরপুর মডেল থানার ওসি ভূঁইয়া মাহবুব হাসান।
এদিকে আকরামুল হকের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন জনি। তিনি আমাদের সময়ের কাছে ওই প্রতিষ্ঠানের অংশীদারিত্ব কিংবা মালিক পক্ষের কাছে কখনই চাঁদা চাননি দাবি করেন। জনি বলেন, এলাকায় দুই ডিশ ব্যবসায়ীর মধ্যে একটু ঝামেলা বেধেছিল। তাদের নিয়ে থানায় বসে একটি সমঝোতাও হয়। মানহানির উদ্দেশে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হচ্ছে বলে দাবি করেন জনি।

0 comments:
Post a Comment