নদী রক্ষা কমিশন এ কী করল?
সোনাই নদে ভবন নির্মাণ!
হবিগঞ্জের মাধবপুরের সোনাই নদের ওপর স্থগিত ভবন নির্মাণ আবার শুরু হয়েছে। এবার নদী রক্ষা কমিশনের অনুমতি নিয়েই নদের ওপর বিরাট বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ করছে সায়হাম গ্রুপ। নদী রক্ষা কমিশনের কাজ কি এভাবে নদী দখলকে বৈধতা দেওয়া?
সোনাই নদের এ অংশ ভরাট করা শুরু হয় ২০১১ সালে। স্বভাবতই নদীর প্রবাহ এতে বাধাগ্রস্ত হয়। এ ব্যাপারে ২০১২ সালের ৪ অক্টোবর প্রথম আলোয় সংবাদ প্রকাশিত হলে নির্মাণকাজ বন্ধের দাবিতে আন্দোলন হয়। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কমিটি করা হয়। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত নদী রক্ষা কমিশনের ওপর ন্যস্ত হয়। নদী রক্ষা কমিশন গঠিত হয়েছিল ‘জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন আইন ২০১২’ আইনের বলে। নদী দখল, ভরাট, দূষণ মোকাবিলায় এ আইন এবং আইনের বলে গঠিত কমিশনের দায়িত্ব ব্যাপক। আইন ও এর নামকরণের মধ্যেই উদ্দেশ্যটি স্পষ্ট।
জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের ২৮তম সভায় সোনাই নদের ওপর ওই বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স নির্মাণের পক্ষে সিদ্ধান্ত হয়। একে ভিত্তি করে ২৯ মার্চ নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভায় সায়হাম ফিউচার কমপ্লেক্সের নির্মাণকাজ চালানোকে বৈধতা দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে ভূমি জরিপ অধিদপ্তর হয়ে মন্ত্রণালয়ের কমিটি পর্যন্ত সবাই একমত হয়, নির্মাণাধীন জমিটি সায়হাম গ্রুপেরই নিজস্ব সম্পত্তি! যদিও ওই কমিটির অর্ধেক সদস্যই প্রতিবেদনে স্বাক্ষর করেননি বলে সংবাদসূত্রে জানা যায়।
নদীই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। সুতরাং নদীর জমি নিয়ে জালিয়াতি ও প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। পাশাপাশি নদী রক্ষা আইনের প্রয়োগ, নদী রক্ষা কমিশনের কার্যকলাপ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটির মনোযোগ আকর্ষণ করি। নদীর মতো জীবন ও প্রতিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গাফিলতি ও অনিয়ম থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি। গণমাধ্যমসহ প্রশাসন ও নাগরিক মহলেরও নজরদারি প্রয়োজন।
এ সর্ম্পকে আরও একটি খবর পড়ুন এই লিঙ্ক ।


0 comments:
Post a Comment